
সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চলে আবারও সক্রিয় হয়েছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। মুক্তিপণের দাবিতে একটি ফিশিং ট্রলারসহ ১২ জন জেলেকে অপহরণ করেছে তারা।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত গভীর রাতে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ফুসফুসের চর এলাকার নদীতে। মাছ আহরণের সময় বিশেষ পোশাকধারী বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা ট্রলারসহ জেলেদের ঘিরে ফেলে এবং তাদের জোরপূর্বক অপহরণ করে সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
অপহৃত ১২ জেলে হলেন ইয়াসিন (২৫), মাসুম (৫৮), সেলিম (২৫), জাকির (২৮), হোসেন (৩০), তৌহিদ (২৮), ইয়াসিন (২০), মাহবুব (২৪), হানিফ (৩৫), হৃদয় (২৬), ইব্রাহিম (৪০) ও সুমন (২৭)। তাদের সবার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ররুহিতা ও নিদ্রা সখিনা এলাকায়।
বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, গভীর রাতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ করে দস্যুরা ট্রলারসহ জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদের গহীন সুন্দরবনে আটকে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরই বনরক্ষী ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে স্মার্ট পেট্রোলিং টিম অভিযান শুরু করেছে। তবে বিকেল পর্যন্ত অপহৃতদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, অপহৃতরা দুবলার চর সংলগ্ন সাগর এলাকায় মাছ ধরছিলেন এবং তাদের কাছে বন বিভাগের কোনো অনুমতি ছিল না।
এদিকে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অপহৃতদের উদ্ধারে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের অভিযান চলমান রয়েছে, তবে এখনো তাদের সন্ধান মেলেনি।
আপনার মতামত লিখুন :