শ্যামনগরের শংকরকাটিতে পলিমালচ প্রযুক্তিতে করলা–উচ্ছের চাষে নতুন দিগন্ত


সাতক্ষীরা ক্রাইম রিপোর্টার, আব্দুর রশিদ প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের শংকরকাটিতে পলিমালচ প্রযুক্তিতে করলা–উচ্ছের চাষে নতুন দিগন্ত

শ্যামনগর উপজেলার গোবিন্দপুর ব্লকের শংকরকাটি গ্রামে আধুনিক পলিমালচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে করলা ও উচ্ছে চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ পদ্ধতির কারণে চলতি মৌসুমে উৎপাদন বেড়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে সবজি চাষে আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শংকরকাটিতে এ বছর প্রায় দুই হেক্টর জমিতে করলা ও উচ্ছে আবাদ করা হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকই পলিমালচ পদ্ধতি ব্যবহার করায় জমিতে আগাছা কম জন্মানো, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। এতে আগের বছরের তুলনায় ফলনও ভালো হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামসুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর এলাকায় করলা ও উচ্ছে চাষ অনেক বেড়েছে। পলিমালচ প্রযুক্তি ব্যবহারে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, আগাছা কম হয় এবং গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়—ফলে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এই পদ্ধতিতে জমিতে অতিরিক্ত সেচ ও আগাছা পরিষ্কারের খরচ কমেছে, পাশাপাশি কীটপতঙ্গের আক্রমণও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে গিয়ে লাভ বেড়েছে।

কৃষক প্রকাশ, নিউটন ও দেবব্রত জানান, আগে সাধারণ পদ্ধতিতে চাষে বেশি খরচ হতো। এবার পলিমালচ ব্যবহারের ফলে আগাছা কম হয়েছে এবং গাছের বৃদ্ধি ভালো হওয়ায় তারা লাভের মুখ দেখছেন।

আরেক কৃষক নূর ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রথমবার পলিমালচ ব্যবহার করে তিনি ভালো ফল পেয়েছেন এবং আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে চাষের পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ মনে করছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার প্রভাব মোকাবিলায় পলিমালচ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে এ পদ্ধতি মাটির গুণাগুণ রক্ষা করে উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

এদিকে শংকরকাটিতে উৎপাদিত করলা ও উচ্ছে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ হচ্ছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকলে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত এলাকায় সবজি চাষ সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।