শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যা: গ্রেপ্তার সোহেলের দোষ স্বীকার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যা: গ্রেপ্তার সোহেলের দোষ স্বীকার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এর আগে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলেও পরবর্তীতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে হাজতখানা থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েকজন তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগে বলা হয়, সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে শিশুটিকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খুঁজতে শুরু করেন।

একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান স্বজনরা। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে একটি কক্ষে শিশুটির মরদেহ এবং অন্য কক্ষে বালতির ভেতরে তার মাথা পাওয়া যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির দেহ বিকৃত করা হয় এবং বিভিন্ন অংশ আলাদা করে রাখা হয়। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে এবং জড়িত অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।