শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় বেড়িয়ে এলো নতুন তথ্য


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
শিশু রামিসাকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় বেড়িয়ে এলো নতুন তথ্য

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সোহেলের সঙ্গে আরও একজন সহযোগী জড়িত ছিলেন। একই মামলায় অভিযুক্ত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠান।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন জানান, ঘটনার দিন সকালে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় সোহেল বাইরে থেকে কক্ষটির দরজা আটকে দেন। পরে সোহেল ও তার এক সহযোগী জোর করে রামিসাকে ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে আসে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি চিৎকার করতে চাইলে ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। কাটা মাথা একটি বালতিতে রাখা হয় এবং দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানায় পুলিশ।

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পান। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। এ সময় ঘরের বাইরে হৈচৈ শুনে স্বপ্নার ঘুম ভাঙলে সোহেল দরজা খুলে দেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বপ্না স্থানীয়দের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন এবং সোহেল ও তার সহযোগীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানার সঙ্গে থাকা অপর সহযোগীর নাম জানা গেলেও তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করেনি পুলিশ। মামলার এজাহারে তাকে ‘অজ্ঞাতনামা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানানো হচ্ছে। নিহত রামিসা আক্তার রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই নৃশংস ঘটনার পর বুধবার শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তারসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।