প্রবাসীকে আট টুকরো, সেই পরকীয়া প্রেমিকা গ্রেপ্তার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
প্রবাসীকে আট টুকরো, সেই পরকীয়া প্রেমিকা গ্রেপ্তার

রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যা করে মরদেহ আট টুকরো করার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা (৩১)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) নরসিংদীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ও মুগদা থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে এ ঘটনায় গত ১৮ মে হেলেনা বেগম (৪০) ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৩। তবে ঘটনার পর থেকেই তাসলিমা পলাতক ছিলেন।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররমের সঙ্গে একই গ্রামের আরেক প্রবাসী সুমনের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনার সঙ্গে মোকাররমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

র‍্যাবের তথ্যমতে, সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন। গত ১৩ মে দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তিনি প্রেমিকা তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে মুগদার মান্ডা এলাকায় হেলেনা আক্তারের ভাড়া বাসায় যান।

সেখানে বিয়ে ও টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয় নিয়ে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে জানায় র‍্যাব। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তাসলিমা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৪ মে সকালে নাশতার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোকাররমকে অচেতন করা হয়। পরে বালিশচাপা, হাতুড়ি ও ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরো করা হয়।

পরে মরদেহের অংশ পলিথিন ও বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ মে পুলিশ মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

ঘটনার পর র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তারের পর এবার মূল অভিযুক্ত তাসলিমাকেও আইনের আওতায় আনা হলো।