পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির মাংস কি দেওয়া যায়


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির মাংস কি দেওয়া যায়

কোরবানির সময় জবাইকারী, কসাই বা সহযোগীদের পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির মাংস বা চামড়া দেওয়া বৈধ কিনা—এ প্রশ্নটি প্রতি বছরই আলোচনায় আসে। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

ইসলামি ফিকহবিদ ও গবেষকদের মতে, কোরবানির পশুর মাংস, চামড়া বা অন্য কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। পারিশ্রমিক অবশ্যই আলাদা অর্থ বা নির্ধারিত বিনিময়ে পরিশোধ করতে হবে।

হাদিসে এসেছে, আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে কোরবানির পশুর দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে নির্দেশ দেন যে, পশুর মাংস, চামড়া ও অন্যান্য অংশ সদকা করা হবে এবং কসাইয়ের পারিশ্রমিক কোরবানির অংশ থেকে দেওয়া যাবে না; বরং পারিশ্রমিক নিজেদের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে হবে (সহিহ মুসলিম: ১৩১৭)। ইসলামি গবেষণা পত্রিকা ‘মাসিক আল কাউসার’-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোরবানির পশুর কোনো অংশ বিক্রি করা বা পারিশ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত নয়। তাই জবাইকারী বা কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে মাংস বা চামড়া দেওয়া বৈধ হবে না।

তবে নির্ধারিত পারিশ্রমিক পরিশোধের পর স্বেচ্ছায় কোরবানির মাংস উপহার বা হাদিয়া হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। এটি শরিয়তে বৈধ এবং এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ঢাকার জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, যদি কেউ কোরবানির মাংস বা চামড়া পারিশ্রমিক হিসেবে দিয়ে থাকে, তাহলে কোরবানি আদায়ের ক্ষেত্রে ত্রুটি হবে। এই ত্রুটি দূর করতে হলে ওই অংশের সমপরিমাণ মূল্য গরিব-মিসকিনকে সদকা করতে হবে।

ফিকহবিদদের মতে, সঠিক পদ্ধতি হলো—জবাইকারী বা কসাইকে আগে নির্ধারিত পারিশ্রমিক প্রদান করা এবং পরে চাইলে আলাদাভাবে কোরবানির মাংস হাদিয়া হিসেবে দেওয়া।ইসলামি গ্রন্থসমূহে (আলমুহীতুল বুরহানী, বাদায়েউস সনায়ে, ফাতহুল বারী, আদ্দুররুল মুখতারসহ বিভিন্ন ফিকহ গ্রন্থে) একই নির্দেশনা পাওয়া যায় যে, পারিশ্রমিক ও হাদিয়া আলাদা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে। এভাবে শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চললে কোরবানির আমল যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা যায়।