দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি দিলে কি ওয়াজিব আদায় হয়?


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি দিলে কি ওয়াজিব আদায় হয়?

কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করা হয়। আধুনিক সময়ে অনেক মুসলমান দূরবর্তী দরিদ্র মানুষের কাছে কোরবানির গোশত পৌঁছে দিতে দাতব্য সংস্থা বা ইসলামী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করে থাকেন। এতে ওয়াজিব কোরবানি আদায় হবে কি না—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়।

ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, কোনো বিশ্বস্ত ও শরিয়তসম্মত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি করালে তা সম্পূর্ণ বৈধ এবং ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়। কারণ কোরবানির ক্ষেত্রে নিজে উপস্থিত থাকা শর্ত নয়; বরং কাউকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করে কোরবানি করানো শরিয়তসম্মতভাবে অনুমোদিত।

তবে শর্ত হলো, যে সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে সেটি অবশ্যই আমানতদার হতে হবে এবং শরিয়তের বিধান মেনে নির্ধারিত সময়ে পশু জবাই ও সঠিকভাবে মাংস বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা, বিলম্ব বা অনিয়ম থাকলে কোরবানির শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর কোরবানির উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন বানিয়েছি। সেগুলোর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো, তারপর যখন সেগুলো পড়ে যায়, তখন তা থেকে খাও এবং অভাবীদেরও খাওয়াও” (সুরা হজ: ৩৬)।

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে কোরবানির গোশত শুধু দান নয়, বরং নিজেরা খাওয়া, পরিবারকে খাওয়ানো এবং দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা সুন্নত ও উত্তম আমল। বর্তমানে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে কোরবানি কার্যক্রম জনপ্রিয় হয়েছে, কারণ এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্র অঞ্চলের মানুষও কোরবানির গোশত পেয়ে থাকে। এটি একদিকে ইবাদত আদায়ের মাধ্যম, অন্যদিকে মানবিক সহমর্মিতারও দৃষ্টান্ত।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সংস্থাটি অবশ্যই বিশ্বস্ত হতে হবে, শরিয়ত অনুযায়ী পশু নির্বাচন করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। কোনো প্রতারণা বা অনিয়ম থাকলে তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। ইসলাম সহজ ও বাস্তবধর্মী ধর্ম হিসেবে নিজে উপস্থিত না থেকেও প্রতিনিধির মাধ্যমে কোরবানি করার সুযোগ দিয়েছে। তবে কোরবানির মূল শিক্ষা—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ, আন্তরিকতা এবং মানবসেবার মনোভাব—সবসময় হৃদয়ে ধারণ করা প্রয়োজন।