গণক বা জ্যোতিষের কথা বিশ্বাস করলে কী হবে, যা বলছে ইসলাম


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
গণক বা জ্যোতিষের কথা বিশ্বাস করলে কী হবে, যা বলছে ইসলাম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি সংলাপ—“রাগ করলা?”—ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিও থেকে শুরু হওয়া এই বাক্যটি এখন মিম, ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টে ব্যবহার করছেন নেটিজেনরা। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের পাশে এক যুবকের ভাগ্য গণনা করছেন এক গণক এবং বারবার একই ভঙ্গিতে বলেন—“রাগ করলা?”। তার কথার ধরন ও উপস্থাপনাই ভিডিওটিকে ভাইরাল করে তোলে।

তবে এ ধরনের গণনা বা ভবিষ্যৎ জানার দাবি নিয়ে ইসলামি শরিয়তের অবস্থান স্পষ্ট ও কঠোর।

ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, অদৃশ্য বা গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলার। পবিত্র কোরআনে একাধিক স্থানে এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যেমন—“আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউ অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না, আল্লাহ ছাড়া” (সুরা নামল: ৬৫) এবং “তাঁর কাছেই অদৃশ্যের চাবি রয়েছে, তিনি ছাড়া কেউ তা জানে না” (সুরা আনআম: ৫৯)।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না” (সুরা বাকারা: ২১৬)।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) গণক বা ভবিষ্যৎ বলার দাবিদারদের কাছে যাওয়া সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এক হাদিসে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গেল এবং তার কথা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মাদের ওপর অবতীর্ণ দ্বীনকে অস্বীকার করল” (আবু দাউদ)।

আরেক হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করল এবং তার কথা সত্য বলে বিশ্বাস করল, তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হবে না” (সহিহ মুসলিম)।

ইসলামি আলেমদের মতে, ভবিষ্যৎ জানার দাবি করা বা গণকের কথা বিশ্বাস করা গুরুতর গুনাহ এবং ঈমানের পরিপন্থী কাজ। কারণ এতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য অদৃশ্য জ্ঞানের দাবি করা হয়, যা ইসলামী বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অতএব, বিনোদনের উদ্দেশ্যে ভাইরাল কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও গণনা বা ভবিষ্যৎ জানার দাবি করা বিষয়গুলো ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়—এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।