মারা গেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্মিথ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
মারা গেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্মিথ

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল জন নাইট স্মিথ (এম.জে.কে. স্মিথ) মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। দীর্ঘদিন ইংল্যান্ড ও কাউন্টি ক্রিকেটে অবদান রাখা এই সাবেক ক্রিকেটারকে একজন সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।

১৯৫৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ৫০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন স্মিথ। এর মধ্যে ২৫টি ম্যাচে তিনি দলের অধিনায়কত্ব করেন। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩১.৬৩ গড়ে ২ হাজার ২৭৮ রান সংগ্রহ করেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৩টি সেঞ্চুরি ও ১১টি অর্ধশতক।

কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার-এর হয়ে দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর তিনি দলটির অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৫৯ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ২ হাজার ৪১৭ রান করে আলোচনায় আসেন এবং পরের বছর “উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার” নির্বাচিত হন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ। ৬৩৭ ম্যাচে তিনি করেন ৩৯ হাজার ৮৩২ রান, যা তাকে ইতিহাসের অন্যতম সফল রান সংগ্রাহকদের তালিকায় স্থান দিয়েছে।

মাঠে তার শান্ত স্বভাব, ভদ্র আচরণ ও নেতৃত্বগুণ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়। তিনি “জেন্টলম্যান অ্যামেচার” যুগের অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতেন, যেখানে অপেশাদার ও পেশাদার ক্রিকেটাররা একসঙ্গে খেলতেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবিতেও দক্ষ ছিলেন স্মিথ। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্লাই-হাফ হিসেবে খেলেছেন এবং ১৯৫৬ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় রাগবি ইউনিয়ন দলের হয়ে ওয়েলসের বিপক্ষে একটি ম্যাচও খেলেন।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বেও যুক্ত ছিলেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ম্যাচ রেফারি, ওয়ারউইকশায়ারের চেয়ারম্যান এবং ইংল্যান্ড দলের ট্যুর ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৪-৯৫ অ্যাশেজ সফরেও দলের সঙ্গে ছিলেন।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং কাউন্টি ক্রিকেট অঙ্গন। এজবাস্টনে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা নীরবতা পালন করে এই সাবেক অধিনায়ককে শ্রদ্ধা জানান। সাবেক ক্রিকেটার মাইক আথারটন ও জিওফ্রে বয়কটসহ অনেকেই তাকে শান্ত, ভদ্র ও ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন।