বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের কাছে সেতুমন্ত্রী অবরুদ্ধ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের কাছে সেতুমন্ত্রী অবরুদ্ধ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মন্ত্রী ওই এলাকায় যান। সেতুটি নির্মিত হলে ভোলা, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালীর মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে মন্ত্রী বগা ফেরিঘাটে পৌঁছে পূর্বপাড়ের একটি সভায় যোগ দিতে ফেরিতে ওঠেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন এবং একপর্যায়ে মন্ত্রীর গাড়িবহর ঘিরে অবরুদ্ধ করে ফেলেন।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয় এবং এলাকায় অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ে ফিরে যান। এরপর তিনি গাড়িবহর নিয়ে পটুয়াখালীর দিকে রওনা দেন। ঘটনাস্থলে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, জামায়াত আয়োজিত সভায় মন্ত্রীর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন এবং পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হয়। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, সভার ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ছবি না থাকায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন এবং সেই কারণেই তারা সভাস্থলে মন্ত্রীকে যেতে বাধা দেন।

এদিকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরো ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, প্রস্তাবিত সেতু বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকলে প্রকল্পটি অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।