মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর যেভাবে আদায় করা হবে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর যেভাবে আদায় করা হবে

বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) মোটরসাইকেল মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আদায়ের যে পরিকল্পনা করছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কীভাবে এই কর আদায় করা হবে—তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা যানবাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব যানবাহনের মালিকরা শুধুমাত্র বার্ষিক ট্যাক্স টোকেন ফি প্রদান করেন, যা নির্দিষ্ট সময় পর নবায়ন করতে হয়।

তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্যাক্স টোকেনের পাশাপাশি অতিরিক্ত এআইটি আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। কিন্তু দেশের অনেক মোটরসাইকেল মালিকের করযোগ্য আয় নেই এবং তাদের অনেকেরই ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (টিআইএন) নেই—এ কারণে কর আদায় পদ্ধতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এ বিপুল সংখ্যক যানবাহনকে করের আওতায় আনা নিয়েও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ বিষয়ে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম কর আরোপের ধারণা যৌক্তিক হতে পারে, তবে করের হার অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে। তার মতে, টিআইএন ব্যবস্থার মাধ্যমে নাকি অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় কর আদায় হবে, তা এনবিআরকেই নির্ধারণ করতে হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলে নতুন কর আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। ১১১ থেকে ১২৫ সিসির জন্য বছরে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা, ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ৫ হাজার টাকা এবং এর বেশি সিসির মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের আলোচনা চলছে।

এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ওপরও অঞ্চলভেদে কর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে এই সম্ভাব্য কর আরোপের প্রতিবাদে মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে প্রস্তাবিত কর বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশে মোটরসাইকেলের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়া এবং অনেক চালকের জীবিকা রাইড শেয়ারিং বা ডেলিভারি নির্ভর হওয়ায় অতিরিক্ত কর তাদের জীবনে চাপ বাড়াবে। ফলে নতুন কর আরোপ হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও আয় উপার্জনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, টিআইএন ভিত্তিক কর আদায় নাকি বিদ্যমান ট্যাক্স টোকেন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এআইটি আদায় করা হবে—এ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। বাজেট ঘোষণার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।