
অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত ডাক পেলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। প্রথমবারের মতো ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি-এর অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ২৬ সদস্যের এই দলে নেইমারের অন্তর্ভুক্তিকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনার ঝড়।
সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাতে রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে জমকালো আয়োজনে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে ফুটবল অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি ১৩টি দেশের সাংবাদিকসহ ৬০০-এর বেশি গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। নেইমারের নাম ঘোষণার মুহূর্তে পুরো মিলনায়তনে করতালির ঢেউ ওঠে।
স্কোয়াড ঘোষণার পর আনচেলত্তি বলেন, পুরো বছরজুড়ে নেইমারের পারফরম্যান্স ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ফিটনেসে উন্নতি, ধারাবাহিক খেলা এবং অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে দলে রাখা হয়েছে। তার দায়িত্ব অন্যদের মতোই হবে, তবে অভিজ্ঞতার কারণে নির্দিষ্ট কিছু পজিশনে তার গুরুত্ব থাকবে।
৩৪ বছর বয়সী নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা, যার গোলসংখ্যা ৭৯। তবে ২০২৩ সালে এসিএল ইনজুরির পর একাধিক চোট তাকে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে রাখে। সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে খেললেও পুরোপুরি ফিটনেস নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তবে চূড়ান্ত দলে জায়গা পেলেও শুরুর একাদশে তার অবস্থান নিশ্চিত নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ। আনচেলত্তি বলেন, নেইমার দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও তাকে একাদশে খেলাতেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। ম্যাচ পরিস্থিতি ও শারীরিক অবস্থার ওপর তার খেলার বিষয়টি নির্ভর করবে।
তিনি আরও বলেন, দলকে একক কোনো খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল করা যাবে না। বিশ্বকাপ জিততে হলে পুরো দলকে একসঙ্গে পারফর্ম করতে হবে। তারকা নয়, বরং দলগত শক্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নেইমারের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে স্কোয়াড ঘোষণায় আনচেলত্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা, যা বিশ্বকাপের আগে আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
আপনার মতামত লিখুন :