‘গুলি করা হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
‘গুলি করা হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক সাক্ষী ভয়াবহ নির্যাতন ও চিকিৎসা-হুমকির বর্ণনা দিয়েছেন। তার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার সময় একদল লোক চিকিৎসকদের হুমকি দিয়ে বলেছিল—“গুলিবিদ্ধ হয়েছে মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।”

মঙ্গলবার (১৯ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলাটি রামপুরা এলাকায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত।

নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি রামপুরার মেরাদিয়ায় দারোয়ান হিসেবে কাজ করেন এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন বলে জানান। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ওইদিন দুপুরে মেরাদিয়া কাঁচাবাজার এলাকায় ছাত্র আন্দোলন চলছিল। সেখানে বিজিবি, পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের লোকজন একসঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বহু হতাহত ও রক্তাক্ত মানুষ দেখতে পান। পরে পালানোর সময় নিজেও কোমরের নিচে গুলিবিদ্ধ হন।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরদিন রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় হাসপাতালের চিকিৎসকদের আওয়ামী লীগের কিছু লোক হুমকি দেয় এবং চিকিৎসা না চালানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

সাক্ষী বলেন, হুমকির সময় তারা চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলে—“এদের গুলি করা হয়েছে, মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।” এই ঘটনার পর তিনি কোনো হাসপাতালিক নথিপত্র পাননি বলেও জানান। জবানবন্দিতে তিনি আরও দাবি করেন, পরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার বাসায় গিয়ে তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। পরে তিনি নিজ খরচে ফরাজি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। নিজেকে গুলিবিদ্ধ করার জন্য তিনি বিজিবি ও পুলিশের কয়েকজন সদস্যসহ স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজনকে দায়ী করেন এবং তাদের বিচারের দাবি জানান।

মামলায় মোট চারজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়ে সেনানিবাসের সাব-জেলে আছেন, বাকি দুইজন পলাতক। প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন। এই জবানবন্দির মাধ্যমে রামপুরা ঘটনায় সংঘটিত সহিংসতা, চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ প্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আরও বিস্তারিতভাবে আদালতের সামনে উঠে এসেছে।