ইবোলা ভাইরাস কী, কীভাবে ছড়ায়?


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৯, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
ইবোলা ভাইরাস কী, কীভাবে ছড়ায়?

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আতঙ্কের নাম ইবোলা ভাইরাস। এটি অত্যন্ত বিরল হলেও ভয়াবহ সংক্রামক একটি ভাইরাস, যা ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ (EVD) বা ইবোলা হেমোরেজিক ফিভার নামে পরিচিত প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে। উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বিশেষ করে আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ইবোলা সংক্রমণ বৃদ্ধির ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কিছু প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যায়। ইবোলা একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। এছাড়া শিম্পাঞ্জি, গোরিলা ও বানরের মতো বন্যপ্রাণীর রক্ত বা শরীরের তরলের মাধ্যমেও ভাইরাসটি মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে।

একবার মানুষ আক্রান্ত হলে এটি সহজেই মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল, মূত্র, বুকের দুধ বা বীর্যের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। শরীরের কাটা অংশ, চোখ, নাক ও মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লির মাধ্যমেও ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানাপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ব্যবহৃত সুঁই থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সংক্রমণের পর ভাইরাসটি শরীরে ২ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে, যাকে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, তীব্র দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও গলা ব্যথা। পরে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, কিডনি ও লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যা রোগীকে দ্রুত ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। ইবোলার নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা এখনও সীমিত। তবে কিছু টিকা ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত শনাক্ত করে রোগীকে আইসোলেশনে রেখে নিবিড় পরিচর্যা দিলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি বা বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই ইবোলা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।