মাত্র ৭ মিনিটে হবে ক্যানসার চিকিৎসা, এলো নতুন ইনজেকশন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
মাত্র ৭ মিনিটে হবে ক্যানসার চিকিৎসা, এলো নতুন ইনজেকশন

ভারতে প্রথমবারের মতো ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসায় মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য একটি নতুন ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন চালু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত, সহজ ও রোগীবান্ধব করে তুলবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই ইনজেকশনটি বাজারে এনেছে। এটি মূলত নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হবে, যা ফুসফুস ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। বর্তমানে ক্যানসারের ইমিউনোথেরাপি সাধারণত শিরায় (আইভি) ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যেখানে রোগীদের দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হয়। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে ওষুধটি সরাসরি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় মাত্র সাত মিনিটে।

চিকিৎসকদের মতে, এই উদ্ভাবনের ফলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী ও দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসা রোগীরা এতে বেশি উপকৃত হবেন। এই ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ইমিউনোথেরাপি ওষুধ, যা শরীরের ‘পিডি-এল১’ প্রোটিনকে ব্লক করে। ক্যানসার কোষ সাধারণত এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যায়। প্রোটিনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ক্যানসার কোষকে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এই থেরাপির জন্য উপযুক্ত হতে পারেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত কম হয়। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, অন্যদিকে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

তবে এই আধুনিক চিকিৎসার খরচ এখনো অনেক বেশি। প্রতি ডোজ ইনজেকশনের দাম প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি, এবং একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়, ফলে মোট ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছায়। খরচ কিছুটা কমাতে রোশ ভারতে ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি এই চিকিৎসা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি সিজিএইচএস-এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের মতো জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে হলে সরকারি সহায়তা, বীমা কাভারেজ এবং কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি হয়ে উঠেছে।