করোনার মতো আরেক মহামারির ঝুঁকিতে বিশ্ব


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
করোনার মতো আরেক মহামারির ঝুঁকিতে বিশ্ব

মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো-তে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে নীরবে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণ এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও আশঙ্কা করছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হলেও এটি কোভিড-১৯-এর মতো বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। কারণ ইবোলা সাধারণত সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এটি বাতাসে সংক্রমিত হয় না। অতীত অভিজ্ঞতা হিসেবে ২০১৪–১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২৮ হাজার ৬০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল।

এই প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার বিরল “বুন্দিবুগিও” প্রজাতির কারণে হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ধরনের সংক্রমণ এর আগে মাত্র ২০০৭ ও ২০১২ সালে শনাক্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজাতিতে মৃত্যুহার প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এমনকি কিছু প্রচলিত পরীক্ষাও প্রাথমিক পর্যায়ে ভাইরাস শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে উন্নত পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানডেমিক সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের গবেষক অ্যামান্ডা রোজেক বলেন, বৈশ্বিক মহামারির ঝুঁকি না থাকলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অন্যদিকে ট্রুডি ল্যাং জানান, বুন্দিবুগিও প্রজাতি মোকাবিলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইবোলার লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে দেখা দেয়। শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে বমি, ডায়রিয়া, অঙ্গ বিকল হওয়া এবং কখনো কখনো রক্তক্ষরণও হতে পারে। নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় রোগীদের সহায়তামূলক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত আইসোলেশন, সংস্পর্শ শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ চিকিৎসা ও দাফন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে অনেক এলাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান এবং রুয়ান্ডা-ও ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে উগান্ডায় দুইজনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঙ্গোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত পাওয়া গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতে পারে।