
সুনামগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ একটি চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। একই অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল, নগদ অর্থ এবং গলানো স্বর্ণের পিন্ডি উদ্ধার করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানায় গত ৪ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মামলাটি পেনাল কোডের ৩২৮, ৩৮১ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়। ঘটনাস্থল ছিল জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার এক ভুক্তভোগীর বসতঘর।
ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিকপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে মূল আসামি গৃহকর্মী শিপা বেগম ও তার সহযোগী নেছার আহমদকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর শিপা বেগমের কাছ থেকে একটি ক্রিম রঙের ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা নগদ ৬৬ হাজার টাকা, ২০ পাউন্ডের দুইটি বৈদেশিক নোট, একটি সিটি ব্যাংকের চেক বই, ৯৬০/২৫ নম্বরের দশ পাতার একটি জমির দলিল এবং চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ডিসোপ্যান-২ ওষুধের খালি পাতা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ওই রাতেই তাকে সঙ্গে নিয়ে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার হক সুপার মার্কেটের ছুম্মা আমিন জুয়েলার্সে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৮ হাজার ১৮৭ টাকা মূল্যের চোরাই সোনার এক জোড়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ১২ মে ২০২৬ তারিখে একই জুয়েলার্সে পুনরায় অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া একটি স্বর্ণের চেইন গলানো অবস্থায় ২২ ক্যারেটের এক খণ্ড স্বর্ণের পিন্ডি উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ১ ভরি ৪ আনা ২ রতি এবং আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে উদ্ধারকৃত নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ জব্দকৃত মালামালের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৭ টাকা।
ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহিম জিবান জানান, গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি বলেন, মূল আসামি শিপা বেগম পেশাদার চোর হিসেবে পরিচিত। তিনি ছদ্মনামে গৃহকর্মী সেজে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ নিতেন এবং সুযোগ বুঝে পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে সবাইকে অচেতন করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যেতেন। তিনি আরও জানান, এই চক্রের পেছনে কোনো বৃহৎ সিন্ডিকেট রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :