
রাজধানীর মুগদা এলাকায় সৌদি প্রবাসী মুকাররমের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিখোঁজ থাকা কাটা মাথাটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে একই ঘটনায় দেহের ৭টি টুকরা উদ্ধার করা হয়েছিল।
রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মুগদার পূর্ব-মানিকনগরের পাকা রাস্তার মাথায় দুটি বাড়ির মাঝের গলি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু রায়হান জানান, মানিকনগরের ৭৭/এ ও ৭৭ নম্বর বাড়ির মাঝের গলি থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথাটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকালে এটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং মাথায় পোকাও দেখা গেছে। মুখমণ্ডল বিকৃত থাকায় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এর আগে একই দিন দুপুরে মুগদার মান্ডা এলাকার একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির দেহের ৭টি টুকরা উদ্ধার করা হয়। তবে তখন মাথার অংশ পাওয়া যায়নি। পরে রাতেই আলাদা অভিযান চালিয়ে সেটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ পলিথিনে মোড়ানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহটি টুকরো করে আলাদা স্থানে ফেলে রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সৌদি প্রবাসী মুকাররম পরকীয়া সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের জেরে হত্যার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করার পর মরদেহ ৮ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশ আরও জানায়, প্রায় ৫ লাখ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রেমিকা ও তার এক সহযোগী এই ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মুগদা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করা হলেও তদন্ত চলমান রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
আপনার মতামত লিখুন :