বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং এখনও প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছায়নি। তাই পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে গবেষণাভিত্তিক ও উদ্ভাবনী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, অটোমেশন, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি ও ডাটা সায়েন্সের মতো ক্ষেত্রগুলো বিশ্ব অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের কাঠামো পরিবর্তন করছে।

তিনি বলেন, এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে না পারলে শিক্ষিত বেকারত্ব আরও বাড়বে। তাই শিক্ষা কারিকুলামকে সময়োপযোগী করে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ইনোভেশন গ্রান্ট ও সিড ফান্ডিং কার্যক্রম চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, প্রাথমিক স্তর থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকার যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি দেশের সফল প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও (এলামনাই) গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এজন্য তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, মেধা ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।