বাংলাদেশে কি বিশ্বকাপ দেখা যাবে, যা জানা গেল


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে কি বিশ্বকাপ দেখা যাবে, যা জানা গেল

ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। অথচ বাংলাদেশে এখনো টুর্নামেন্টটির অফিসিয়াল সম্প্রচারস্বত্ব চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও সম্প্রচার বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ‘বিশ্বকাপ ব্ল্যাকআউট’ বা খেলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাস্তবসম্মত নয়।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশের প্রথম বেসরকারি ক্রীড়া চ্যানেল টি-স্পোর্টস। চ্যানেলটি এখনো বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব কেনার ব্যাপারে আশাবাদী এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রচার খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি বিশেষ সিন্ডিকেট নিজেদের আর্থিক স্বার্থে ‘বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যেতে পারে’—এমন ভীতি ছড়িয়ে সরকারি পর্যায়ে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো বড় ফুটবল দর্শক বাজারকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করার সুযোগ ফিফার নেই। ব্যবসায়িক বাস্তবতা এবং দর্শক চাহিদার কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো সমাধান আসবে বলেই তারা মনে করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে ইরান বা উত্তর কোরিয়ার মতো কিছু দেশে সম্প্রচার সীমাবদ্ধতা দেখা গেলেও সেগুলো ছিল সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ফল।

আন্তর্জাতিক সম্প্রচার বাজারে ফিফার নমনীয়তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে চীনের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। জানা গেছে, চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে চারটি বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব নিয়ে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দাবি করলেও শেষ পর্যন্ত ফিফা ৬০ মিলিয়ন ডলারে চুক্তি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সময় পার্থক্য এবং বাজার বাস্তবতার কারণে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে সম্প্রচারস্বত্বের ক্ষেত্রে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে মূল্য নির্ধারণ নিয়ে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিজ্ঞাপন বাজার ও সম্ভাব্য আয় বিবেচনায় এবারের স্বত্বমূল্য ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে হওয়া যৌক্তিক। তবে অভিযোগ রয়েছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক প্রায় ৮৮ কোটি টাকায় স্বত্ব কিনে তা বিটিভির কাছে প্রায় ১২২ কোটি টাকায় বিক্রির প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে আরও বিপুল অর্থ আয়ের পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

এমন উচ্চমূল্যের কারণেই বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবার স্বত্ব কেনা থেকে সরে এসেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ফিফাকে অগ্রিম অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও উঠেছে স্প্রিংবকের বিরুদ্ধে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, কাতার বিশ্বকাপের সময়ও একই ধরনের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে স্বত্বমূল্য বাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে বাধ্য করেছিল। এবারও একই চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে টি-স্পোর্টস এখনো সম্প্রচারস্বত্ব কেনার দৌড়ে সক্রিয় রয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে কোনো বেসরকারি টেলিভিশন বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকরা বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন—এমন সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে জোরালো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।