বাঁশখালীতে ৪৫ বছর পর জলকদর খাল পুনঃখনন শুরু, দূর হবে জলাবদ্ধতা


বাঁশখালী প্রতিনিধি, মোঃ ফখরুল ইসলাম প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বাঁশখালীতে ৪৫ বছর পর জলকদর খাল পুনঃখনন শুরু, দূর হবে জলাবদ্ধতা

দীর্ঘ ৪৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবশেষে শুরু হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত জলকদর খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ। সরকারের দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার খানখানাবাদ ও বাহারছড়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ জলকদর খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জলকদর খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬১ লাখ ৮৩ হাজার ১০৪ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় খানখানাবাদ ইউনিয়নে ১,১০০ মিটার, বাহারছড়া ইউনিয়নে ১,১০০ মিটার এবং সাধনপুর এলাকায় আরও ৩০০ মিটারসহ মোট ২,৪০০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে পলি ও মাটি জমে খালটির নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হতো ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি। স্থানীয়রা আশা করছেন, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং উপকূলীয় কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে এই উদ্যোগ সময়োপযোগী। প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরীফ মুহাম্মদ রুবেল, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর পর এ খাল পুনঃখননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী—এটি উপকূলীয় অঞ্চলের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দেবে এবং কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবে।