বড় সুখবর পে-স্কেল নিয়ে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
বড় সুখবর পে-স্কেল নিয়ে

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা এবং পেনশনারদের জন্য অতিরিক্ত আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সব মিলিয়ে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট সংক্রান্ত প্রস্তুতি বৈঠকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকেই শুরু হতে পারে।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নীতিগতভাবে এগিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে ধাপে ধাপে পুরো কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হতে পারে। এরপর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভাতা কাঠামো যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একদিকে সরকারের ওপর হঠাৎ চাপ কমবে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির প্রভাবও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে শুধু বেতন কাঠামোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়নেই ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতায় বছরে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

অন্যদিকে, জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন গ্রেডভেদে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা ও পেনশন সুবিধা বৃদ্ধিরও সুপারিশ রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই বিশাল ব্যয় বাস্তবায়নে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য হবে। না হলে বাজেট ঘাটতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।