চট্টগ্রামে কমছে পশুর উৎপাদন, তবে মিলবে চাহিদামতো


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, মারুফ প্রকাশের সময় : মে ১৮, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে কমছে পশুর উৎপাদন, তবে মিলবে চাহিদামতো

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলাগুলোতে কোরবানির পশুর বাজারে ইতোমধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। আজ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে দেশজুড়ে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে স্থায়ী হাটের পাশাপাশি খামার, অলিগলি ও সড়কের মোড়েও গড়ে উঠছে অস্থায়ী পশুর হাট।

তবে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এবার চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে কোরবানিযোগ্য পশুর উৎপাদন গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একইসঙ্গে পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট, মজুরি বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পশুর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামও ঊর্ধ্বমুখী।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলাগুলোতে স্থানীয়ভাবে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, গত বছর প্রত্যাশিত লাভ না পাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক খামারি পশুপালন থেকে সরে গেছেন। এর ফলে চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ৩০০টি খামার বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে উৎপাদন ছিল ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি, ২০২০ সালে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি, ২০২১ সালে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪টি, ২০২২ সালে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫০১টি, ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি এবং ২০২৪ সালে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। চলতি বছরে তা নেমে এসেছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টিতে।

এ বছর গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া—সব ধরনের পশুর উৎপাদনই গত বছরের তুলনায় কমেছে। এর মধ্যে গরু কমেছে ৩৬ হাজার ৫৩৪টি, ছাগল ৫৬ হাজার ৫৫৫টি, মহিষ ১৬ হাজার ৩২৯টি এবং ভেড়া ১৪ হাজার ২৭৪টি।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর মোট চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। সেই হিসেবে স্থানীয় উৎপাদনে ঘাটতি রয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০টি পশুর। তবে গত বছর চাহিদা ছিল আরও বেশি—৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর জানান, সামান্য ঘাটতি থাকলেও এতে কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না। উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নাটোরসহ বিভিন্ন জেলা এবং নোয়াখালী, ফরিদপুর ও পার্বত্য জেলাগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক পশু চট্টগ্রামে আসছে। দেশে সামগ্রিকভাবে পশুর উদ্বৃত্ত রয়েছে, তাই ঈদে কোনো ঘাটতির সম্ভাবনা নেই।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদ ঘনিয়ে এলে পশুর সরবরাহ আরও বাড়বে এবং ক্রেতারা তাদের বাজেট অনুযায়ী কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।