
নন্দীগ্রাম উপজেলার সিধইল গ্রামে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে একটি পরিবারের শেষ সম্বল। গভীর রাতে ভয়াবহ ঝড়ে বিশাল আকৃতির একটি বট-পাইকুর গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে পুরো বসতঘর ধ্বংস হয়ে যায়। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে পরিবারটি।
শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার সিধইল গ্রামের বিয়েগাছতোলা এলাকায় হঠাৎ করে শুরু হয় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। প্রচণ্ড দমকা হাওয়ায় বাড়ির পাশের বহু বছরের পুরোনো গাছটি শিকড়সহ উপড়ে গিয়ে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে টিন, বাঁশ ও দেয়াল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নষ্ট হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত গৃহকর্তা মানিক মিঞা জানান, রাতে চায়ের দোকান বন্ধ করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খাবার খেতে বসেছিলেন। এমন সময় হঠাৎ তীব্র ঝড় শুরু হলে সবাই আতঙ্কে ঘরের একপাশে আশ্রয় নেন। ঠিক তখনই বিকট শব্দে গাছটি ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। তিনি, তার মা, স্ত্রী, এক সন্তান ও দুই ভাতিজা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
ঘরবাড়ি হারিয়ে পরিবারটির কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মানিক মিঞা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, কয়েকদিন আগেই বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। অনেক কষ্ট করে ধার-দেনা ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। কীভাবে আবার ঘর তুলবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিবারটিকে উদ্ধার করেন। এলাকাবাসীর দাবি, ঝড়ের মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো গাছ দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :