সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে হামলা, পরিচালক আহত; ছিনতাইয়ের অভিযোগ


সাতক্ষীরা ক্রাইম রিপোর্টার, আব্দুর রশিদ প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কোচিং সেন্টারে হামলা, পরিচালক আহত; ছিনতাইয়ের অভিযোগ

সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে হামলা চালিয়ে পরিচালককে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

গত ১৪ মে রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে হাটখোলার উত্তর পাশে অবস্থিত ‘নলেজ একাডেমিক পয়েন্ট কোচিং সেন্টার’-এ এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত পরিচালক মইনুল ইসলাম (৩০) বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর মইনুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন পুরাতন সাতক্ষীরার নাথপাড়া এলাকার ইমরান হোসেন (২৪), মো. তোহা (২১), মো. শিপন হোসেন (২৬) ও মো. রকি (২২)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইমরান হোসেনের এক বোন ওই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করতেন। কোচিংয়ের এক শিক্ষকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর অতিরিক্ত কথাবার্তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হলে বিষয়টি পরিচালক মইনুল ইসলামের নজরে আসে। পরে কোচিংয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিক্ষক আলফাজকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ওই ছাত্রীকেও কোচিংয়ে আসতে নিষেধ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোচিং সেন্টারে হামলা চালায়। তারা নিচতলার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিচালকের ওপর এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

বাদীর অভিযোগ, ইমরান হোসেন জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে গুরুতর জখম হন তিনি এবং মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়। এছাড়া তোহা লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তার বাম গাল কেটে যায়। অন্য আসামিরাও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার সময় পরিচালকের কাছে থাকা ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মইনুল ইসলামকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাজনিত কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাতক্ষীরা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।