ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চলমান হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্তকে “ফৌজদারি অবহেলা” আখ্যা দিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি বাতিল ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততার অভিযোগের তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

রিটে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়ার নীতিগত ও প্রশাসনিক দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করা যায়।

এর আগে ৬ এপ্রিল একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। ওই নোটিশে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বলে জানান।

ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, দেশে আবারও হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যাতে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেক শিশু ও রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মতে, টিকাদান কর্মসূচি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য অবহেলার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

রিটে যাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ আরও অনেকে রয়েছেন। আবেদনকারীর অভিযোগ, টিকাদান ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় “অশুভ ও অপরাধমূলক” ভূমিকা থাকতে পারে, যা তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন।