ঘরে বসেই নিতে পারবেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ, জেনে নিন নিয়ম


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
ঘরে বসেই নিতে পারবেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ, জেনে নিন নিয়ম

ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া মানেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, জটিল কাগজপত্র ও নানা প্রক্রিয়ার ঝামেলা—এমন ধারণা বদলে দিতে যাচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ব্যাংকিং সেবা ‘ই-লোন’। এখন মোবাইল ফোনের কয়েকটি ক্লিকেই ঋণের আবেদন, যাচাই-বাছাই এবং ঘরে বসেই ঋণের টাকা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা এবং ক্যাশলেস সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে গত ১১ মে এ বিষয়ে একটি বিশেষ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার আওতায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সেবার নাম বাধ্যতামূলকভাবে ‘ই-লোন’ হবে। এই ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, অর্থাৎ ১২ মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ই-লোনের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক সুদহার কার্যকর হবে। তবে কোনো ব্যাংক যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ দেয়, তাহলে গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ নেওয়া যাবে। কম সুদে সহজ শর্তে ঋণসেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ই-লোনের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ বিতরণ—সব কার্যক্রমই অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ফলে গ্রাহককে কোনো কাগজে সশরীরে স্বাক্ষর করতে হবে না। এর পরিবর্তে বায়োমেট্রিক তথ্য এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করে গ্রাহকের সম্মতি নেওয়া হবে।

ঋণ অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গ্রাহকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্ট যাচাই করবে। তবে এই অনুসন্ধানের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি এই সুবিধা পাবেন না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকিং ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সুবিধা পাবেন। বর্তমানে অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সাপ্তাহিক কিস্তির চাপে পড়েন। কিন্তু ই-লোনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক সহজ শর্তে ১২ মাসে কিস্তি পরিশোধের সুযোগ থাকছে। এছাড়া জামানত বা ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই সেবা পাওয়া যাবে, যা ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।