
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিকা উইটকে ধরিয়ে দিতে ২ লাখ ডলার (প্রায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) পুরস্কার ঘোষণা করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে তিনি ইরানে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাতে জানা গেছে, এফবিআই এক বিবৃতিতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, মনিকা উইটের অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা যেন সংস্থাকে জানানো হয়। সংস্থাটি বলেছে, তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ওয়াশিংটনে এফবিআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ওয়াইরজবিকি বলেন, “এফবিআই তাকে ভুলে যায়নি এবং তাকে গ্রেপ্তারে সবার সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।”
মনিকা উইট যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ‘অফিস অব স্পেশাল ইনভেস্টিগেশনস’-এ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা মিশনে কাজ করেন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে তিনি ইরানে পালিয়ে গিয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করেন। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডেমার্স অভিযোগ করেন, ইরান তাকে প্রভাবিত করে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে। পরে তার বিরুদ্ধে একটি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের অভিযোগও ওঠে, যা যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে অবস্থানকালে তিনি দেশটির সরকারের সহায়তায় বাসস্থান, প্রযুক্তিগত সরঞ্জামসহ বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন এবং সেখান থেকেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমানে মনিকা উইটের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে এফবিআই। তাকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও তথ্য আহ্বান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :