
সাতক্ষীরার সাতক্ষীরা শহরের প্রবেশদ্বার লাবসা বাইপাস মোড় এখন পরিণত হয়েছে এক অনন্য আকর্ষণে। স্থানীয় ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দীনের গড়ে তোলা আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা। লতায় লতায় ঝুলে থাকা লাল, সবুজ ও খয়েরি আঙুরের থোকা দেখে অনেকেই একে বলছেন ‘এক খণ্ড কাশ্মীর’।
ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দীন ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে মাত্র দুই বছর আগে নিজের বাড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি চারা রোপণ করেন। ফলন ও স্বাদ ভালো হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহী হন। এরপর আট মাস আগে তিনি ১৫ কাঠা জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলেন পূর্ণাঙ্গ আঙুর বাগান।
বর্তমানে মাচায় মাচায় নেটের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে আঙুরের লতা, যা দেখে স্থানীয়রা মুগ্ধ হচ্ছেন। হেলাল উদ্দীন জানান, শুরুতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হলেও প্রথম বছরের ফলন বিক্রি করেই সেই অর্থ উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তার ধারণা, দ্বিতীয় বছর থেকে বছরে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হতে পারে।
তিনি আরও জানান, একটি আঙুর গাছ একবার রোপণ করলে দীর্ঘদিন—প্রায় শত বছর পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম। সাফল্য ধরে রাখতে তিনি নতুন জমিতে বাগান সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও করছেন।
এ উদ্যোগে পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী আলেয়া বেগম। তিনি মনে করেন, এ ধরনের চাষে তরুণরা এগিয়ে এলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে।
স্থানীয়দের পাশাপাশি কৃষি বিভাগও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক এই আঙুর চাষ সফল হলে জেলায় ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এর বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
উপকূলীয় অঞ্চলে এমন ব্যতিক্রমী আঙুর বাগান শুধু একজন উদ্যোক্তার সফলতা নয়, বরং সাতক্ষীরার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :