
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিউবা সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক লিয়েনিস তোরেস রিভেরা।
শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কিউবা আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে এটি কোনো আক্রমণাত্মক অবস্থান নয়। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
রাষ্ট্রদূত রিভেরা বলেন, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা মার্কিন জনগণের বিরুদ্ধে প্রথমে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেবে না, কারণ দেশটি যুদ্ধ চায় না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কিউবার ওপর যেকোনো সামরিক হামলা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো রক্তপাত চাই না। কিউবার মাটিতে যেমন কিউবানদের মৃত্যু দেখতে চাই না, তেমনি কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানিও কাম্য নয়।” কিউবার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকারের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত কিউবার চলমান অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধের কারণে দেশটি ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।
রিভেরা আরও বলেন, কিউবা একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র এবং তারা শুধু চায় বাইরের কোনো দেশ যেন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে। কিউবার জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কিউবার জ্বালানি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। কারণ, ভেনেজুয়েলাই ছিল কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ। এরপর যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলে দেশটির জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের সংকটে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সামরিক চাপ মোকাবিলায় কিউবা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
আপনার মতামত লিখুন :