মেক্সিকোতে বেতন বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন, ঝুঁকিতে বিশ্বকাপ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
মেক্সিকোতে বেতন বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন, ঝুঁকিতে বিশ্বকাপ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে মেক্সিকোতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা। দাবি পূরণ না হলে আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে দেশব্যাপী আন্দোলনের মাধ্যমে মেক্সিকো কার্যত অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। খবর এএফপির।

মেক্সিকোর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশটির জাতীয় শিক্ষক ইউনিয়ন ‘ন্যাশনাল এডুকেশন ওয়ার্কার্স’-এর প্রায় তিন হাজার সদস্য রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এক ব্যানারে লেখা ছিল, “শিক্ষা এখন আর অগ্রাধিকার নয়, বরং বিশ্বকাপে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসাই এখন মুখ্য।” আবার এক আন্দোলনকারীকে ফুটবল নিয়ে ড্রিবলিং করে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানাতেও দেখা যায়।

জানা গেছে, সরকার ও শিক্ষক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যৌথভাবে ৯ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হলেও ইউনিয়নের একটি বড় অংশ এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদ্রোহী অংশটি শতভাগ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে মেক্সিকোর একজন সরকারি স্কুলশিক্ষকের মাসিক মোট বেতন প্রায় ৯৬৭ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার টাকার সমান।

উত্তরাঞ্চলীয় জাকাতেকাস রাজ্য থেকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ফিলিবের্তো ফ্রাউস্ত্রো ওরোজকো এএফপিকে বলেন, “আমরা আমাদের দাবিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।” তিনি আরও জানান, দাবি পূরণ না হলে বিশ্বকাপ চলাকালে কঠোর আন্দোলনের বিষয়ে ইউনিয়নের সদস্যরা একমত হয়েছেন।

শিক্ষকদের এই হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে মেক্সিকো সরকার। কারণ, অতীতেও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে রাজধানী মেক্সিকো সিটির প্রধান সড়ক ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংযোগপথ অবরোধ করেছিলেন শিক্ষকরা, যার ফলে নগরজীবন স্থবির হয়ে পড়েছিল।

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে মেক্সিকো। টুর্নামেন্ট ঘিরে দেশটিতে প্রায় ৫০ লাখ পর্যটক আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনের আগে শিক্ষকদের আন্দোলনের হুমকি সরকারকে বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে।