
বিশ্বজুড়ে আধুনিক স্থাপত্য ও প্রযুক্তির অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আকাশছোঁয়া সুউচ্চ ভবনগুলো। প্রতিযোগিতামূলক এই স্থাপত্যযুদ্ধে একের পর এক দেশ নির্মাণ করছে দৃষ্টিনন্দন ও অত্যাধুনিক অট্টালিকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা দ্য কাউন্সিল অন টল বিল্ডিংস অ্যান্ড আরবান হ্যাবিট্যাট (সিটিবিইউএইচ)-এর তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ১০ ভবনের তালিকা প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা। ৮২৮ মিটার উচ্চতার এই ভবনে রয়েছে ১৬৩টি তলা। ২০১০ সালে নির্মাণ শেষ হওয়া ভবনটিতে আবাসিক, অফিস ও বিলাসবহুল হোটেল সুবিধা রয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত মারদেকা ১১৮ বা পিএনবি ১১৮। ৬৭৮ দশমিক ৯ মিটার উচ্চতার এই ভবনটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু ভবন। ২০২৩ সালে নির্মাণ শেষ হওয়া ভবনটিতে অফিস, হোটেল ও বাণিজ্যিক সুবিধা রয়েছে।
চীনের সাংহাই শহরের সাংহাই টাওয়ার রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ৬৩২ মিটার উচ্চতার ১২৮ তলাবিশিষ্ট এই ভবনটিতে বিশ্বের দ্রুততম এলিভেটর ও সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ ডেক রয়েছে।
চতুর্থ স্থানে থাকা সৌদি আরবের মক্কা ক্লক রয়েল টাওয়ারের উচ্চতা ৬০১ মিটার। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘড়িবিশিষ্ট ভবন হিসেবে পরিচিত। হাজিদের আবাসনের জন্য এখানে সাতটি হোটেল রয়েছে।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের শেনজেনে অবস্থিত পিং অ্যান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স সেন্টার। ৫৯৯ মিটার উচ্চতার এই ভবনটি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত লোটে ওয়ার্ল্ড টাওয়ার রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ৫৫৫ মিটার উচ্চতার এই ভবনে অফিস, অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেল ও কনসার্ট হল রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে। ৫৪১ মিটার উচ্চতার ভবনটি স্মৃতিচিহ্ন ও আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অষ্টম ও নবম স্থানে রয়েছে চীনের গুয়াংজু সিটিএফ ফিন্যান্স সেন্টার এবং তিয়ানজিন সিটিএফ ফিন্যান্স সেন্টার। দুটি ভবনের উচ্চতাই ৫৩০ মিটার।
তালিকার দশম স্থানে থাকা সিআইটিআইসি টাওয়ার বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন। ৫২৮ মিটার উচ্চতার এই ভবনের নকশা প্রাচীন চীনা জাহাজ ‘জুন’-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্বের এসব আকাশচুম্বী ভবন শুধু উচ্চতার দিক থেকেই নয়, আধুনিক প্রযুক্তি, নান্দনিক নকশা ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণেও বিশ্ববাসীর কাছে বিস্ময়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :