
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথমবার চাঁদপুর যাওয়ার পথে কুমিল্লার বরুড়ায় ব্যাপক জনসমর্থন ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ২৫ বছর পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন হাজারো সাধারণ মানুষ।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলাকার দীর্ঘদিনের তিনটি প্রধান দাবি তাঁর কাছে তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের এসব দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, তবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।” একই সঙ্গে তিনি এলাকায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও ইতিবাচক আশ্বাস দেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী দেওয়া শুরু হয়েছে। বিএনপি যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে তা বাস্তবায়ন করে।”
দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণই দেশের মালিক এবং মালিক যখন দায়িত্ব নেয়, তখনই দেশ এগিয়ে যায়। তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে সামগ্রিকভাবে দেশ এগিয়ে যেতে পারে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসন দেশের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে এবং অর্থ লুটপাট করেছে, যার ফলে দেশের অর্থনীতি এখন চাপের মুখে রয়েছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
পথসভাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয় এবং দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছ থেকে দেখতে পেয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
আপনার মতামত লিখুন :