
১৬ মে, ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবসের ৫০ বছর পূর্তি। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাব এবং গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল ঐতিহাসিক গণআন্দোলন।
সেদিন রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে লাখো মানুষ সমবেত হয়ে লংমার্চে অংশ নেন। আন্দোলনের সময় মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দিয়েছিলেন, “মরণবাঁধ ফারাক্কা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও।” একই সঙ্গে গঙ্গার ন্যায্য পানি না দিলে “দিল্লির মসনদ কাঁপিয়ে দেওয়া হবে” বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তার এই বক্তব্য তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
পরবর্তীতে লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে শেষ হয়। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফারাক্কা ইস্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
১৯৭৪ সালে ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ চালু করার পর থেকেই পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ কমতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌপথ ও পরিবেশে। নদীভাঙন, পানির সংকট ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির মতো সমস্যাও বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পানি বণ্টন চুক্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান নিয়ে বিতর্ক এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে সরকার জানিয়েছে, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও কৃষি ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্মরণসভা, আলোচনা সভা ও নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বক্তারা নদীর ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজশাহীর মানুষের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই পানি সংকটের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান এবার বাস্তবে রূপ নেবে।
আপনার মতামত লিখুন :