অর্থনীতি ঋণাত্মক অবস্থায়, ঘুরে দাঁড়াতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৬, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
অর্থনীতি ঋণাত্মক অবস্থায়, ঘুরে দাঁড়াতে লাগবে অন্তত ২ বছর: অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি খাতে। তিনি জানান, শুধু জ্বালানি খাতেই আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় এবং বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে গত দুই মাসে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে জাতীয় অর্থনীতি এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে এ খাতে বরাদ্দের একটি বড় অংশ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অপচয় হয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বরাদ্দ বাড়ানো নয়, সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যখাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগ্যতা ছাড়া ভর্তি বা নিয়োগ হলে প্রতিষ্ঠানের মান নষ্ট হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আমীর খসরু বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। পাশাপাশি দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহজ করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখতে পর্যাপ্ত শিক্ষক, আধুনিক অবকাঠামো এবং ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজন ছাড়া আসনসংখ্যা বৃদ্ধি না করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দেশের দক্ষ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দক্ষ জনবলের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ কারণে মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, চিকিৎসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালটির উন্নয়ন কাজে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী।