রাজশাহীতে লিচু চাষে ৫৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে লিচু চাষে ৫৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

রাজশাহী মহানগরী ও জেলার ৯টি উপজেলায় এ বছর লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। আগাম জাতের দেশি লিচুর মৌসুম শেষের দিকে থাকলেও এখন বাজারে প্রবেশ করতে শুরু করেছে জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ‘বোম্বে’ লিচু। ফলে পুরো জেলাজুড়ে লিচুর সরবরাহ ও বাণিজ্য আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর রাজশাহীতে লিচুর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৫২৮ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। দেশি ও বোম্বে জাত মিলিয়ে মোট ৩ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এবার আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে অনুকূলে থাকায় ফলের আকার ও রঙ ভালো হয়েছে। পাশাপাশি কীটপতঙ্গের আক্রমণও আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। এতে করে চাষিরা ভালো ফলন পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

চাষি তইমুর বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর মান ভালো হয়েছে এবং দামও সন্তোষজনক। এখন বোম্বে লিচু গাছ থেকে নামানো শুরু হয়েছে। পাইকাররা বাগান থেকেই লিচু কিনে নিচ্ছেন। অন্যদিকে চাষি সাইদ জানান, বোম্বে লিচুর বাম্পার ফলনে তারা খুশি। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুম শেষে লাভজনক ফল পাওয়া যাবে।

সরেজমিনে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি লিচুর মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। এখন বাজারে বড় আকারের ও রসালো বোম্বে লিচুর আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে ভালো মানের ১০০টি লিচু ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারেও বেচাকেনা জমে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক লিচু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলন ও বর্তমান বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে এ বছর রাজশাহীতে প্রায় ৫৬ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্য হতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান মৌরী বলেন, এ বছর লিচুর উৎপাদন ভালো হওয়ায় প্রায় ৫৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে চাষিদের মুখে হাসি ফুটবে বলে আশা করা হচ্ছে।