
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে “মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬” প্রণয়ন করা হয়েছে, যা এ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার–এর সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান। সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, নতুন আইনে শুধু পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, বরং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে কেবল আইন যথেষ্ট নয়; এজন্য ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো নতুন ধরনের অপরাধও এবার এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মশালায় জানানো হয়, ২০১২ সালের আইনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে পাচারকারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, সম্পত্তি জব্দ এবং আসামির অনুপস্থিতিতেও বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া পাসপোর্ট ও ভিসা জালিয়াতি এবং ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সংক্রান্ত সব বিধান একীভূত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। কর্মশালায় গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, মানব পাচার চক্র দমন এবং অবৈধভাবে বিদেশ গমনের প্রবণতা কমাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।
আপনার মতামত লিখুন :