দাম বাড়তে পারে চাল-ডাল-তেল-ফলসহ খাদ্যপণ্যের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
দাম বাড়তে পারে চাল-ডাল-তেল-ফলসহ খাদ্যপণ্যের

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চাল, ডাল, তেলসহ অন্তত ২৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এসব পণ্যের স্থানীয় সরবরাহের ওপর উৎসে করের হার বর্তমান শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে।

২০২৬–২৭ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে অর্থ, বাণিজ্য ও রাজস্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুমোদন মিললে প্রস্তাবটি আগামী জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

এনবিআরের প্রস্তাবিত তালিকায় ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, লবণ, চিনি এবং বিভিন্ন ফলসহ একাধিক নিত্যপণ্য রয়েছে। পাশাপাশি আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা ও বিভিন্ন মসলাও কর বৃদ্ধির আওতায় আসতে পারে। ধানের কুড়া, বীজ, সরিষা ও পাটজাত পণ্যেও কর বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, আমদানি কমে যাওয়া এবং করজাল সীমিত থাকায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিদ্যমান খাত থেকেই অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই খাতে কর বাড়ালে বছরে অতিরিক্ত পাঁচশ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরবরাহ পর্যায়ে কর বাড়ালে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে। ব্যবসায়ীরা এই করকে ব্যয় হিসেবে ধরে পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হন, ফলে ভোক্তা পর্যায়ে চাপ বাড়ে।

বর্তমানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় দশ শতাংশের কাছাকাছি থাকায় নতুন কর আরোপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, একবার কর বাড়লে তা সহজে কমানো হয় না। ফলে ব্যবসায়ীরা এটিকে খরচ হিসেবে ধরে পণ্যের দাম সমন্বয় করেন, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়ে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, শুধু নিত্যপণ্য নয়, রপ্তানি প্রণোদনার ওপর কর বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভ্যাট কাঠামো চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি কোমল পানীয়, আইসক্রিম ও প্রসাধনী পণ্যে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়তে পারে। তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে নতুন ধরনের কর আরোপের চিন্তাও চলছে।