দখল ও কচুরিপানায় অস্তিত্ব সংকটে বটিয়াঘাটার নদী-খাল


বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি, তরিকুল ইসলাম প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
দখল ও কচুরিপানায় অস্তিত্ব সংকটে বটিয়াঘাটার নদী-খাল

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার অধিকাংশ নদী ও খাল দখল, দূষণ ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক না থাকায় খালগুলোর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়াসহ স্থানীয়দের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮২টির বেশি খাল ও জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি খাল ইজারা দেওয়া হলেও বাকি রেকর্ডভুক্ত খাল ও জলাধারগুলোর অনেকাংশ অবৈধ দখলের শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু প্লট ব্যবসায়ী সরকারি খাল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে দখল করে নিচ্ছে। এতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

এছাড়া অধিকাংশ সরকারি খাস খালে দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা জমে থাকায় পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও খালের পানি দেখা যায় না, পুরো খালজুড়ে শুধু কচুরিপানা। পচন ধরায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বাড়ছে। দূষিত পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বটিয়াঘাটা বাজার থেকে পার বটিয়াঘাটা পর্যন্ত বিস্তৃত খালের দু’পাশে রয়েছে শত শত বিঘা কৃষিজমি। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় সেচ সংকটে পড়ছেন কৃষকরা। এতে ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

হেতালবুনিয়া খাল, বয়ারভাঙ্গা খাল, হোগলবুনিয়া খাল, আমতলা খাল, বাদামতলা খাল, ইনেদার খাল, ঠাকুনবাড়ীর খাল, সমুদ্রের খাল, গোগের খাল, রামদিয়া খাল, হোগলাডাঙ্গা খাল ও বাঁশবাড়িয়া খালসহ অধিকাংশ খালের একই অবস্থা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, “সরকারি রেকর্ডভুক্ত খালগুলো দখলমুক্ত করে পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে খাল খননের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”