তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা এবং দুর্বল অর্থনীতি সামাল দেওয়া বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা পেয়েছি। প্রতিবছর আমাদের ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে।”
বুধবার (১৩ মে) সকালে রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও লুটপাটের অর্থনীতিকে পুনরায় স্বাবলম্বী করতে অন্তত আরও দুই বছর সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, “দেশের রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের তুলনায় আমদানিতে অনেক বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো সহজ কাজ নয়।”
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কঠোর পরিশ্রম ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। “আসমান থেকে টাকা আসবে না। আমাদের নিজেদের পরিশ্রম এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমেই অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যারা ভোটারবিহীনভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভাজন ও ধর্মীয় বিভেদ তৈরি করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক বিতর্ক অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদের বিতর্ককে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যে মাদ্রাসার ছাত্র পরিচয় বা ধর্মীয় পোশাক পরিধান করাকেও সন্দেহের চোখে দেখা হতো। বর্তমান সরকার সেই ভয়ের সংস্কৃতি দূর করতে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আলেম-ওলামাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আগামী দুই বছর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা না গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক (হাফি) এবং উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী।
আপনার মতামত লিখুন :