
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব প্রকৌশল বিভাগের জন্য অভিন্ন রেট শিডিউল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় মোট ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পৃথক পৃথক রেট শিডিউল অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এতে ব্যয় ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে। তাই সব বিভাগের জন্য একক রেট শিডিউল প্রণয়নের নির্দেশ দেন তিনি।
একই সঙ্গে প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন এবং ব্যয় সাশ্রয় নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদনের সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি তার বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে পদ্মা ব্যারাজের কথা উল্লেখ করেন। প্রকল্পটির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
একনেক সভায় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, “দীর্ঘ ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে আমরা পদ্মা ব্যারাজের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। আমাদের অঞ্চলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি ও মাছ উৎপাদন বাড়বে।”
সভায় অনুমোদিত ৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র উন্নয়ন, হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ, সরকারি শিশু পরিবার ও ছোটমনি নিবাস পুনর্নির্মাণ, সাভার সেনানিবাসে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ, চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প এবং ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
আপনার মতামত লিখুন :