
দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলপথ আধুনিকায়ন ও পুনর্বাসনে প্রায় ২ হাজার ২৮ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য নিরাপদ ও দ্রুত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবার মান আরও উন্নত করা।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম ধাপ) শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের পুরো ব্যয় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প ২০৩১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন মেরামত, সংস্কার এবং শক্তিশালী করা হবে।
বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলের অনেক রেললাইন কয়েক দশক পুরোনো হয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে ফাটল, জয়েন্টে ত্রুটি এবং রেললাইন ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ট্রেনের গতি কমিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় শত শত কিলোমিটার রেলপথ পুনর্বাসন ও সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে রেলপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গেও প্রকল্পটি সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার জানিয়েছেন, রেলওয়ের পুরোনো অবকাঠামো এবং আধুনিক ইঞ্জিন ও কোচের ঘাটতির কারণে এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :