রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে সফলভাবে ফ্রেশ পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। এটি ইউনিটটির কমিশনিং এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল শুরু হয় এবং ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে এই ধাপকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পর্যায়গুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটম এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক এবং এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি ডেইরি বলেন, প্রাথমিক কোর লোডিং কার্যক্রম পরিচালনাগত বিধিমালা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরের উপরের অংশ স্থাপন এবং ইন-কোর ইনস্ট্রুমেন্টেশন সিস্টেম সংযুক্ত করা হবে। এরপর নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কার্যক্রম নিশ্চিত করতে একাধিক প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চালানো হবে।

রসাটমের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিগগিরই রিঅ্যাক্টরকে ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন স্তরে নেওয়া হবে এবং ধাপে ধাপে এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে এবং পরে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে। ফিজিক্যাল স্টার্টআপের পর পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে পৌঁছাতে প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস সময় লাগতে পারে। এছাড়া চলতি বছরের শেষ দিকে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু করে উৎপাদন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা রয়েছে। এখানে দুটি ভিভিইআর–১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে প্রকল্পটি থেকে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মোট চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করবে।