মিরপুরে তালের রসে মিলছে গরমের স্বস্তি, বাড়ছে ক্রেতার ভিড়


মিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি,আশিক প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ
মিরপুরে তালের রসে মিলছে গরমের স্বস্তি, বাড়ছে ক্রেতার ভিড়

বৈশাখের দাবদাহে স্বস্তির পরশ এনে দিচ্ছে টাটকা তালের রস। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহ গ্রামে এখন তালের রসকে ঘিরে জমে উঠেছে মৌসুমি বেচাকেনা। সকাল-বিকেল রস কিনতে ভিড় করছেন স্থানীয়সহ দূর-দুরান্তের মানুষ। কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ আবার মাইক্রোবাসে করে এসে উপভোগ করছেন এই প্রাকৃতিক পানীয়।

স্থানীয়দের মতে, কাকিলাদহ গ্রামে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার তালগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বহু গাছি। পেশাদার গাছি রুবেল জানান, রাতে তালগাছে মাটির হাঁড়ি ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং ভোরে সেই হাঁড়ি থেকে তাজা রস নামানো হয়। সকালে রসের স্বাদ ও গুণগত মান সবচেয়ে ভালো থাকায় তখনই ক্রেতাদের ভিড় বেশি দেখা যায়। বিকেলেও নতুন করে রস সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা যায়, রস নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় বিক্রি। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেকে নিয়মিত তালের রস পান করছেন। কৃত্রিম উপাদানমুক্ত হওয়ায় কোমল পানীয়ের তুলনায় এটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ক্রেতারা জানান, এক গ্লাস ঠান্ডা তালের রস গরমের ক্লান্তি দূর করে শরীরে এনে দেয় প্রশান্তি। অনেকে বোতলে ভরে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ গাছের নিচেই দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন এই ঐতিহ্যবাহী পানীয়।

তালের রসের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয়দের জন্য তৈরি হয়েছে মৌসুমি আয়ের সুযোগ। ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত গাছিরা রস সংগ্রহ ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ রস না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা।

এদিকে পুষ্টিবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বাইরে রাখলে তালের রস দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই সবসময় তাজা ও স্বাস্থ্যসম্মত রস পান করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি গাছিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে রস সংগ্রহ ও বিক্রির আহ্বানও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী এই পানীয় একদিকে যেমন গরমে স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে তালের রসের এই জনপ্রিয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।