প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ 


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ 

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা, উন্নত সেবা নিশ্চিতকরণ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের সব কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও নির্দেশ দেন, ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ সরকারি ও বেসরকারি সব স্থাপনায় প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য প্রবেশযোগ্য দরজা, র‍্যাম্প এবং উপযুক্ত টয়লেট ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নারীদের জন্য পরিকল্পিত ইলেকট্রিক বাসেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সুবিধা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও প্রচারণা বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, সারা দেশে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলগুলোর কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারকি করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ সময় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবে ১০ জেলার ১০টি উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা প্রদান করা হবে।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও সেবা ঘাটতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। সরকারের এই উদ্যোগকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সমাজে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।