পাত্র-পাত্রীর খোঁজে চীনের যে বাজারে অভিভাবকদের ভিড়


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
পাত্র-পাত্রীর খোঁজে চীনের যে বাজারে অভিভাবকদের ভিড়

চীনের সাংহাই শহরের বিখ্যাত ‘পিপলস পার্ক’ প্রতি সপ্তাহের শনিবার বিকেলে রূপ নেয় এক ভিন্ন ধরনের মিলনমেলায়। তবে এটি কোনো সাধারণ পার্ক বা পর্যটন কেন্দ্র নয়—এখানে বসে চীনের ঐতিহ্যবাহী কিন্তু বিতর্কিত ‘বিয়ের বাজার’ বা ম্যারেজ মার্কেট।

প্রতি সপ্তাহে শত শত মানুষ এখানে জড়ো হন। পার্কের চারপাশে সারি সারি ঝুলিয়ে রাখা থাকে অসংখ্য জীবনবৃত্তান্ত বা ‘বায়োডাটা’। এসব কাগজে লেখা থাকে প্রার্থীদের বয়স, উচ্চতা, পেশা, মাসিক আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এমনকি নিজের বাড়ি বা গাড়ি আছে কি না—সব বিস্তারিত তথ্য।

প্রথম দেখায় এটি চাকরির বাজার মনে হলেও বাস্তবে এখানে চলছে জীবনসঙ্গী খোঁজার আনুষ্ঠানিকতা। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যাদের বিয়ের কথা হচ্ছে তাদের কেউই সাধারণত সেখানে উপস্থিত থাকেন না। তাদের হয়ে উপস্থিত থাকেন বাবা-মা বা অভিভাবকেরা।

অপরিচিত অভিভাবকেরা একে অন্যের সঙ্গে কথা বলেন, ঝুলে থাকা কাগজগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েন এবং সম্ভাব্য মিল খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। মেয়েটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে বা ছেলের চাকরি স্থায়ী কি না—এমন প্রশ্নই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সব শর্ত মিললেই কেবল ফোন নম্বর বিনিময় হয়।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, চীনের দ্রুত নগরায়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণেই এই ধরনের ‘ম্যারেজ মার্কেট’-এর জন্ম। এক-সন্তান নীতি বহু পরিবারকে একটি সন্তানের ওপরই সব আশা ও বিনিয়োগ কেন্দ্রীভূত করতে বাধ্য করেছে। একই সঙ্গে বড় শহরের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় মানুষের সামাজিক সম্পর্কও সীমিত হয়ে পড়েছে।

ফলে সন্তানদের জন্য জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়ার দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মায়ের কাঁধে চলে এসেছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা এই ব্যবস্থাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয় না, তবুও অভিভাবকেরা নিয়মিতই এখানে এসে সম্ভাবনার খোঁজ চালিয়ে যান।

পশ্চিমা সমাজে যেখানে সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রেম ও আবেগের ভিত্তিতে, সেখানে চীনের এই বাজারে সমীকরণটি অনেকটাই উল্টো। এখানে আগে আসে আয়, সম্পদ ও সামাজিক অবস্থানের হিসাব-নিকাশ, এরপর ধীরে ধীরে জায়গা পায় আবেগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘ম্যারেজ মার্কেট’ শুধু বিয়ের সম্বন্ধের জায়গা নয়; বরং আধুনিক জীবনের অনিশ্চয়তা, একাকীত্ব এবং সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এই মিশ্র বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত কোন ধরনের সম্পর্ক টিকে থাকে—সেই প্রশ্নই ঘুরে ফিরে সামনে আসে।