দেশে বছরে ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : মে ১৩, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
দেশে বছরে ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু কারণ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের (আইএইচএমই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের কারণে। সময়ের সঙ্গে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্ব লবণ সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় বিএফএসএর প্রশিক্ষণ কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক লবণ গ্রহণ ৫ গ্রামের কম হওয়া উচিত। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড়ে একজন মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৯ গ্রাম লবণ গ্রহণ করেন, যা সুপারিশকৃত মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ।

সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলা হয়, আইএইচএমইর গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ স্টাডি অনুযায়ী উচ্চ সোডিয়াম গ্রহণ বিশ্বব্যাপী গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মৃত্যু উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, যার মধ্যে ১৬ লাখ ৭০ হাজার মৃত্যু সরাসরি উচ্চ সোডিয়ামযুক্ত খাদ্যাভ্যাসজনিত অসংক্রামক রোগে হয়েছে।

বাংলাদেশেও অসংক্রামক রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশে বছরে আনুমানিক ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ এসব রোগে মারা যান, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ মৃত্যু অকাল মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত। হৃদরোগ এককভাবে দেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশের জন্য দায়ী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপ এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ, আর অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই লবণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণকে সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সেমিনারে বলা হয়, এই ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে রান্নায় কম লবণ ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বাছাইয়ে সতর্কতা জরুরি। পাশাপাশি সরকারের নীতি সহায়তা, খাদ্যশিল্পে লবণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রস্তাবিত কৌশলের মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে সোডিয়াম কমানো, স্কুল-হাসপাতাল ও কর্মস্থলে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশ তৈরি, ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং চালু করা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

এছাড়া লবণের বিকল্প হিসেবে রসুন, আদা, গোলমরিচ, লেবু, ভিনেগারসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভেষজ ও মসলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, যা স্বাদ বজায় রেখেও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ এবং বিএফএসএর সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব।