
বাংলাদেশের প্রচলিত সফলতার সংজ্ঞা যেখানে উচ্চপদস্থ চাকরি বা ব্যবসায়িক সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে ভিন্ন পথে হাঁটছেন টাঙ্গাইলের সহিদ মাহমুদ। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার ও আর্থিক নিরাপত্তা ত্যাগ করে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করেছেন পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। তার জীবনযাত্রা দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সহিদ মাহমুদের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল একটি সম্মানজনক চাকরির মাধ্যমে। তবে চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ জীবন তাকে তৃপ্তি দিতে পারেনি। দেশের মানুষের জন্য কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি ২০০৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত তার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
পরবর্তীতে ২০১০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘সবুজ পৃথিবী’। পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, নদী রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিই ছিল এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য। তার বিশ্বাস ছিল, পরিবেশ সুরক্ষিত না থাকলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।
সংগঠন পরিচালনার পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও সফলতা অর্জন করেছিলেন। তবে পরিবেশ আন্দোলনের স্বার্থে বারবার তিনি ব্যক্তিগত লাভের পথ থেকে সরে এসেছেন বলে জানা যায়। সংগঠনের কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বৈষয়িক মোহ ত্যাগ করে পরিবেশ রক্ষার কাজে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।
বর্তমানে সহিদ মাহমুদের জীবনের মূল লক্ষ্য পরিবেশ রক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তার নেতৃত্বে ‘সবুজ পৃথিবী’ টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ, নদী দূষণ রোধ এবং নিরাপদ পরিবেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয়দের মতে, সহিদ মাহমুদের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষেরাই প্রকৃত অর্থে সমাজের পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। তার ত্যাগ ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :