জাপানে ভয়ংকর দেখতে ‘নেকড়ে রোবট’ এখন গ্রামীণ এলাকার নতুন নিরাপত্তা প্রযুক্তি হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। মানুষের ওপর ভালুকের প্রাণঘাতী হামলা এবং বসতিপূর্ণ এলাকায় ভালুকের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় কৃষক, গলফ কোর্স পরিচালনাকারী ও নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে এই বিশেষ রোবটের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
‘মনস্টার উলফ’ নামে পরিচিত এই যন্ত্রটি তৈরি করছে হোক্কাইডোভিত্তিক জাপানি প্রতিষ্ঠান ওহাতা সেইকি। মূলত এটি একটি অ্যানিমেট্রনিক কাকতাড়ুয়া, যা বন্য প্রাণী বিশেষ করে ভালুক তাড়ানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
রোবটটির চেহারা অনেকটাই ভয়ংকর। এতে রয়েছে লাল রঙের এলইডি চোখ, বড় করে খোলা মুখ এবং গর্জনের মতো ভয়ানক শব্দ করার ব্যবস্থা। কৃত্রিম লোমে মোড়ানো এই যন্ত্রে স্পিকার, সেন্সর, ব্যাটারি ও সোলার প্যানেল সংযুক্ত রয়েছে। এটি ৫০টিরও বেশি ধরনের রেকর্ড করা শব্দ প্রচার করতে পারে, যার মধ্যে মানুষের চিৎকার, গর্জন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক শব্দও রয়েছে। এসব শব্দ প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা যায় বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
কোম্পানির প্রধান ইউজি ওহতা জানিয়েছেন, চলতি বছর তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি অর্ডার পেয়েছেন, যা সাধারণত পুরো বছরের মোট অর্ডারের সমান। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিটি যন্ত্র হাতে তৈরি করি। এখন চাহিদা এত বেশি যে দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক গ্রাহককে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
তার মতে, ভালুকের হামলা থেকে নিরাপত্তা এবং কৃষিপণ্যের ক্ষতি ঠেকাতে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। একই সঙ্গে ‘মনস্টার উলফ’ কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালে জাপানে ভালুকের হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা আগের সর্বোচ্চ সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি। একই সময়ে দেশজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি ভালুক দেখা যাওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় চলতি এপ্রিল মাসে গত বছরের তুলনায় চার গুণ বেশি ভালুক দেখা গেছে। ভালুকগুলোকে বাড়িঘর, স্কুল, সুপারমার্কেট এমনকি উষ্ণ প্রস্রবণ রিসোর্টের আশপাশেও ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
প্রায় ৪ হাজার ডলার মূল্যের ‘মনস্টার উলফ’ এখন জাপানের গ্রামীণ এলাকায় শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং নিরাপত্তার নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :