মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি বিস্ফোরক তথ্য—ইরানের ভেতরে গোপনে সামরিক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব ইরানের ভেতরে গোপন অভিযান পরিচালনা করে। এটি ইরানি ভূখণ্ডে সৌদি আরবের সরাসরি সামরিক হামলার প্রথম ঘটনা বলে দাবি করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তার ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবও পাল্টা পদক্ষেপ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লেও পরবর্তীতে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
সূত্রগুলোর বরাতে বলা হয়, হামলার পর সৌদি আরব তেহরানকে বিষয়টি অবহিত করে এবং ভবিষ্যতে হামলা অব্যাহত থাকলে কঠোর জবাব দেওয়ার বার্তাও দেয়। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হলে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভাইজ বলেন, সৌদি আরবের এই পাল্টা হামলা এবং পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা দুই পক্ষের বাস্তববাদী কৌশলের প্রতিফলন। তার মতে, উভয় দেশই বুঝতে পেরেছে যে নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও এপ্রিলের শুরুতে ইরানের একটি তেল স্থাপনায় গোপন হামলা চালিয়েছে। এতে লাভান দ্বীপের একটি শোধনাগারে আগুন লাগে এবং উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বলে জানানো হয়।
যদিও এ হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি আমিরাত। তবে ওই সময় ইরান পাল্টা অভিযোগ করে জানায়, শত্রুপক্ষের হামলায় তাদের একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তীতে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলেও দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং প্রতিশোধমূলক অবস্থান পুরো অঞ্চলে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :